করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ ও সুরক্ষার উপায় কী?

কোভিড-19 (করোনা) ভাইরাস কী?

করোনা ভাইরাস কোন একক ভাইরাসের নাম নয়। করোনা ভাইরাসগুলো শ্বাসযন্ত্রে আক্রমণকারী ভাইরাসগুলোর একটি গোষ্ঠী। এই ভাইরাসটি প্রাণী এবং মানুষ উভয়েরই অসুস্থতার কারণ হতে পারে। করোনা ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক এবং একজন মানুষ থেকে অন্য জনের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। করোনা ভাইরাস সাধারণ ঠান্ডা থেকে শুরু করে প্রাণঘাতীর মতো মারাত্মক অবস্থাও ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে কিডনি, অ্যাজমা, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর কোভিড আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি। যদিও এখন কোভিডের প্রকোপ ও ভয়াবহতা অনেক কম, কিন্তু এখনো সারা পৃথিবীসহ বাংলাদেশে এর উপস্থিতি বিদ্যমান।    

করোনা সম্পর্কিত আরও তথ্য জানতে নিচের ভিডিও গুলো দেখুন:

কোভিড19 এর লক্ষণ
এই ভাইরাসের লক্ষণগুলো সাধারণত মৃদু মাত্রারই হয় এবং বেশিরভাগ লোকের ক্ষেত্রেই বিশেষ কোনও চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। এমনকি কিছু রোগী উপসর্গবিহীন হয়েও থাকতে পারেন, অর্থাৎ তাদের মধ্যে কোন প্রকার লক্ষণ দেখা যায় না। তবে COVID-19-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যে উপসর্গগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো হালকা লক্ষণ থেকে গুরুতর অসুস্থতা পর্যন্ত বিস্তৃত। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ২-১৪ দিন পরে যে সকল লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।
  • জ্বর বা ঠান্ডা লাগা
  • কাশি
  • শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • গলা ব্যথা
  • ক্লান্তি
  • সর্দি
  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • পেশী ব্যথা
  • মাথা ব্যথা
  • খাবারের স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া
  • ডায়রিয়া ইত্যাদি
তবে বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যক্তিই (প্রায় ৮০%) বিশেষ কোন চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াই এই রোগ থেকে নিরাময় পেয়েছেন। কোভিড-19 আক্রান্ত প্রতি ৬ জনের মধ্যে প্রায় ১ জন অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদের শ্বাসের অসুবিধা সৃষ্টি হয়। বয়স্ক ব্যক্তিরা, এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বা ডায়াবেটিসের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের এই রোগে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
করোনার জন্য কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?

করোনা আক্রান্ত হবার আগে সতর্কতা:

  • অন্যদের থেকে কমপক্ষে ১ মিটার (প্রায় ২ হাত) দূরত্ব বজায় রাখুন, এতে যদি তারা হাঁচি-কাশি হয় বা কথাও বলে তার সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা কমে যায়।
  • করোনার সতর্কতা হিসাবে আপনি যখন লোকজনের আশেপাশে থাকবেন তখন অবশ্যই সঠিক নিয়মে মাস্ক পরুন।
  • হাঁচি কাশি দেওয়ার সময় অবশ্যই নাক মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিতে হবে।
  • সাবান ও পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।
  • হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রয়োজনে দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে থাকলে, ঘরে ফিরে গোসল করুন।

করোনায় সংক্রমিত হলে সতর্কতা:

  • নিয়মিত অক্সিজেন মাত্রা পরীক্ষা করুন (মধ্যে সুস্থ মানুষের অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫-৯৮ শতাংশের থাকে) 
  • শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন (শরীরের সাধারণ তাপমাত্রা ৯৭-৯৯ ডিগ্রির মধ্যে থাকে)
  • কাশি, শ্বাসকষ্ট বা শারীরিক দূর্বলতার মতো কোনো উপসর্গ আছে কিনা পরীক্ষা করুন
  • সঠিক নিয়মে মাস্ক পরুন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ও মেনে চলুন।

পরিবারের মাঝে কোভিড-১৯ এর সতর্কতা

  • কোভিড সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন।
  • সাবান ও পানি দিয়ে আপনার হাত ধুয়ে নিন এবং কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের চারপাশে থাকার সময় মাস্ক পরুন।
  • আপনার ঘর পরিষ্কার এবং ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।

কখন জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হবে?

যে সকল উপসর্গ গুলো ভালো না হলে এবং শরীরের অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকলে, অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সেগুলো হলো-

  • ক্রমাগত উচ্চমাত্রার জ্বর,
  • শ্বাসকষ্ট,
  • ত্বকে ফুসকুড়ি,
  • নড়াচড়া বা কথা বলতে কষ্ট হওয়া,
  • বুকে ব্যথা ইত্যাদি

*এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া, এবং প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।

তথ্য সূত্র :
https://healthlibrary.askapollo.com/bengali/covid-19-coronavirus-all-you-need-to-know/
Scroll to Top