জ্বর

জ্বর কী?
শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে শুরু করলে বা উচ্চ তাপমাত্রাকে জ্বর বলা হয়। জ্বর শারীরিক অসুস্থতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্মণ, যা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সীমার ৯৬.৮–৯৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অধিক তাপমাত্রা নির্দেশ করে। চিকিৎসকদের মতে, জ্বর আসলে কোন রোগ নয়, বরং এটি রোগের একটি লক্ষণ বা উপসর্গ। ফলে জ্বর হওয়াকে শরীরের ভেতরের কোনো রোগের সতর্কবার্তা বলা যেতে পারে। অনেক সময় সেটা সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সংক্রমণের কারণে হতে পারে, আবার অনেক সময় বড় কোনো রোগের উপসর্গও হতে পারে।

Figure 4https://www.visitcompletecare.com/wp-content/uploads/2019/06/shutterstock_1487854622-1-scaled.webp
 

জ্বর কেন হয়?

  • জ্বর বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। সবচেয়ে পরিচিত হলো ঠাণ্ডা লেগে জ্বর হওয়া বা সর্দি-কাশির কারণে জ্বর।
  • শরীরে কোন সংক্রমণ যেমন: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, প্রোটোজোয়া প্রবেশের কারণে জ্বর হতে পারে।
  • যেকোনো ধরণের ম্যালিগনেন্সি বা ক্যান্সারের কারণেও জ্বর হতে পারে।
  • টিকা নিলে, ফোঁড়া বা টিউমার হলে, প্রস্রাবের রাস্তায় ইনফেকশন হলে, পিরিয়ডের কারণে।
  • করোনাভাইরাস, ডেঙ্গু, টাইফয়েড বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগেরও প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর আসা।

জ্বর সম্পর্কে আরও জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন :

 

বিভিন্ন ধরনের জ্বর:

জ্বরকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

চলমান জ্বর: কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় যখন শরীরের তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা ১.৫ ফারেনহাইট তারতম্য হয়, কিন্তু জ্বর পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় আসে না, সেটাকে বলা হয় কন্টিনিউড জ্বর।

তাপমাত্রার উঠানামা: যখন ২৪ ঘণ্টায় জ্বরের মাত্রা ১০২ বা ১০৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস মধ্যে উঠা নামা করে।

থেমে থেমে জ্বর আসা: যখন জ্বর দৈনিক কয়েক ঘণ্টা করে শরীরে থাকে, আসে এবং যায়, তখন তাকে বলে ইন্টারমিটেন্ট জ্বর।

কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?

জ্বরের সাথে ঘাড় বা শরীরের ব্যথা, উচ্চ তাপমাত্রা, বমি করা বা খাবার খেতে না পারা, তিনদিনের বেশি জ্বর থাকা, শুধু রাতে জ্বর আসা, শরীরে র‍্যাশ বের হওয়া, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, খিচুনি হওয়া-ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

জ্বর থেকে বাঁচতে কিছু পরামর্শ:

যে কারণেই জ্বর হোক, চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে

  • ঘুম বা বিশ্রামে থাকা
  • প্রচুর তরল পানীয় পান করা
  • পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ
  • উষ্ণ বা হালকা গরম পরিবেশে থাকা
  • বিশেষ প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া
Scroll to Top