মাথা ব্যথা:
মাথা ব্যথা আসলে কোনো রোগ নয় বরং একটি উপসর্গ মাত্র। মাথা ব্যথার অনেক রকমভেদ আছে যেমন মাইগ্রেন, দুশ্চিন্তা জনিত মাথা ব্যথা, ক্লাস্টার মাথা ব্যথা ইত্যাদি। ঘনঘন মাথা ব্যথা প্রাত্যহিক পারিবারিক ও কর্মজীবনকে বিষাদময় করে তুলতে পারে। এছাড়া তীব্র মাথা ব্যথা ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়।
মাথাব্যথার ঘরোয়া সমাধান সম্পর্কে আরও জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন:
মাথা ব্যথার কারণসমূহ:
- ঘরে-বাইরে কাজের চাপে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাওয়া না গেলে, তা চোখ আর মাথার উপর চাপ পড়ে। তখন অনেকেই মাথা ব্যথায় ভোগেন।
- মাইগ্রেন মাথা ব্যথার অতি পরিচিত একটি কারণ।
- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায়ও অনেকে মাথা ব্যথায় ভুগে থাকেন। শতকরা ৭০ভাগ মাথা ব্যথাই দুশ্চিন্তার কারণে হয়ে থাকে।
- রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত শারীরিক-মানসিক পরিশ্রম, ক্ষুধার্ত থাকা, অপর্যাপ্ত পানি পান, মানসিক চাপ, এছাড়াও ধূমপান, মদ্যপান, মাদকাসক্তি, অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ, ইত্যাদি মাথা ব্যথার কারণ।
মাথা ব্যথার ধরণ:
মাথা ব্যথা সাধারণত দুই ধরনের আছে:
প্রাথমিক মাথা ব্যথা: প্রাথমিক মাথা ব্যথা হল মাথা এবং ঘাড়ের চারপাশে ব্যথা। যা সংবেদনশীল স্নায়ু, পেশী বা রক্তনালীগুলিতে প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে।
সেকেন্ডারি মাথা ব্যথা: কানের সংক্রমণ , নাক বন্ধ হওয়া এবং পানিশূন্যতাসহ আরও বেশ কিছু সমস্যার কারণে এই ধরনের মাথা ব্যথা হতে পারে।
ক্লাস্টার মাথা ব্যথা হল এক ধরনের প্রাথমিক মাথা ব্যথা। কিন্তু প্রতিটি মাথা ব্যথা ক্লাস্টার মাথাব্যথা নয়।
মাইগ্রেন: মাইগ্রেনের কারণে মাথার এক পাশে ব্যথা অনুভূত হয়, যা শারীরিক কার্যকলাপ, আলো, শব্দ বা গন্ধের সাথে আরও খারাপ হয়।
সাইনাস মাথা ব্যথা: সাইনাসের মাথা ব্যথা আপনার চোখের পিছনে, আপনার গালের হাড়, কপাল বা নাকে একটি নিস্তেজ ব্যথার মতো অনুভূত হয়। এটি সাইনাস সংক্রমণের (সাইনোসাইটিস) একটি উপসর্গ।
টেনশন হেডেক বা দুশ্চিন্তাজনিত মাথা ব্যথা: টেনশন হেডেক হালকা থেকে মাঝারি ব্যথার কারণ হয়, যা আপনার মাথার চারপাশে টাইট ব্যান্ডের মতো অনুভূত হয়। এ ধরণের মাথা ব্যাথা মাথার উভয় পাশে হয়ে থাকে।
মাথা ব্যথার খারাপ লক্ষণঃ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা গুরুতর কোনো রোগ নয়। তবে কিছু মাথা ব্যথা আছে যেগুলোকে কিছু বড় রোগের লক্ষণ বা নির্দেশক বলা হয়ে থাকে।
- যেকোনো মাথা ব্যথা ৫০ বছর বয়সে বা তার বেশি বয়সে প্রথম দেখা দেয়।
- মাথা ব্যথাটা শুরু হওয়ার পর থেকে দিনে দিনে ব্যথার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকা। যেমন ব্যথাটা ঘন ঘন দেখা যায়।
- হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা, ডায়াবেটিস বা রক্তনালির সমস্যা আছে—এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা হলে স্ট্রোক, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি নির্দেশ করে।
- মাথা ব্যথার সঙ্গে আচার-আচরণ, চলাফেরা বা কথাবার্তায় কষ্ট হতে শুরু করে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
- মাথা ব্যথার সঙ্গে যেসব উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন তা হলো কোনো বস্তু দুটি করে দেখা যায়, বমি হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, জ্বর বা অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, কথায় জড়তা আসা, ক্লান্তিবোধ হওয়া, ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার পরও ব্যথা না কমা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আবার মাথা ব্যথা শুরু হওয়া ইত্যাদি।
মাথা ব্যথা কমাতে করণীয়:
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন, কখনো খালি পেটে থাকবেন না। মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দা থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নিন। হালকা শরীরচর্চা করুন।
২. ঘাড়ের রগের দুটো পাশ ও ঘাড়ের কাছে যদি কিছু ক্ষণের জন্য হালকা ম্যাসাজ করেন, তবে আরাম পাবেন ও ক্লান্তি দূর হবে। ক্লান্তির কারণে মাথা ধরলে এই ম্যাসাজ খুব উপকারী।
৩. অতিরিক্ত আলো কিংবা শব্দের কারণে অনেক সময় মাথাব্যথা হয়ে থাকে। তাই মাথা যন্ত্রণা করলে ঘরের আলো কমিয়ে দিন এবং শব্দ থেকে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করুন।
৪. বেশি বেশি মাথা ব্যথা এবং অসহনীয় ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
