চর্মরোগে কম-বেশি সবাই ভোগেন৷ আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ দেখা যায়। এছাড়া অপরিষ্কার ও ঘনবসতিপূর্ণ এবং স্যাঁতসেতে পরিবেশে ও আদ্র আবহাওয়ায় চর্মরোগের প্রকোপ বেশি হয়৷ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে চর্মরোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
ঘামাচি: গরমের সময় ঘামাচি একটি সাধারণ সমস্যা৷ বিশেষ করে গরমে এই সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। এর লক্ষণগুলোঃ
- ত্বকের উপরিভাগে ফুসকুড়ি
- লাল দানার মতো দেখা যায়
- ত্বকে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া হয়
- কিছু কিছু ঘামাচি খুব চুলকায়
- ত্বক খসখসে হয়ে যায়
দাদ: শরীরের যে-কোনো স্থান ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে একে দাদ বলে ৷ এই আক্রমণ মাথার চামড়ায়, হাত-পায়ের আঙুলের ফাঁকে কিংবা কুঁচকিতে হতে পারে৷ এটি ছোয়াঁচে রোগ৷ এই রোগের লক্ষণগুলোঃ
- আক্রান্ত স্থান চাকার মতো গোলাকার হয়
- আক্রান্ত স্থান চুলকায়
- আক্রান্ত ত্বকের ওপরে চুল অথবা লোম থাকলে সেগুলো পড়ে যাওয়া
- ত্বক কিছুটা খসখসে বা শুকনো হয়ে যায়
- আক্রান্ত স্থানটি ফুলে যাওয়া
একজিমা: একজিমা হলো ত্বকের এমন একটি অবস্থা যেখানে ত্বকে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয় ৷ একেক ধরণের একজিমার লক্ষণ একেক রকম হয়৷ তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
- ত্বক লালচে হয় জ্বালাপোড়া করে
- ত্বক শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে যায়
- ত্বক চুলকায়
- হাত ও পায়ের ত্বকের মধ্যে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি ইত্যাদি
খোসপাঁচড়া: শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায় ৷ পরিষ্কার কাপড়-চোপড় ব্যবহার ও নিয়মিত গোসল করলে খোসপাঁচড়া থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়৷ এক বিছানায় একত্রে অনেক মানুষ গাদাগাদি করে ঘুমালে, একই তোয়ালে বা বালিশ–চাদর ব্যবহার করলে একজন থেকে আরেকজনে এ রোগ ছড়ায় ।
- চুলকানি
- র্যাশের সাথে লম্বা দাগ
- ছোট ছোট ফুসকুড়ি
- ত্বক শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে যায়
- হাত, হাতের আঙুলের ফাঁকে, কনুই, বগল, লজ্জাস্থান, স্তন, পশ্চাদ্দেশ ইত্যাদি জায়গায় বেশি হয়।
***খোসপাঁচড়ার ক্ষেত্রে শুধু রোগী নয়, পরিবারের সবাইকে একই সাথে এবং একই সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
সোরিয়াসিস: সোরিয়াসিস ত্বকের একটি জটিল রোগ৷ তবে এটি কেবল ত্বক নয়, আক্রমণ করতে পারে শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও৷
- আক্রান্ত স্থানের চামড়ার রঙ বিবর্ণ হয়ে যায়
- আঁশযুক্ত বা ফ্ল্যাকি এবং সহজেই চামড়া ঝরে যায়
- রোগ যত পুরোনো হয়, ততই জটিল হতে থাকে
- ত্বকের ফুসকুড়ি
- পুরু চামড়া তৈরি হয়
- সাধারণত প্রথমে কনুই, হাঁটু, পিঠের নীচে এবং মাথার ত্বকে দেখা যায়
আর্সেনিকের কারণে চর্মরোগ: আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করলে বা ব্যবহার করলে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে ৷ এ রোগের লক্ষণগুলোঃ
- চামড়ার রং কালো হয়ে যায় বা ছোট ছোট কালো দাগ হয়
- হাত ও পায়ের তালু শক্ত খসখসে হয়ে যায়
- ছোট ছোট শক্ত গুটি দেখা দিতে পারে
- বমি বমি ভাব এবং বমি হয়, পাতলা পায়খানা হয়
- খাওয়া-দাওয়ায় অরুচি, রক্ত আমাশয়, মুখে ঘা ইত্যাদি দেখা দেয়
- কখনো কখনো জিহবার উপর ও গায়ের ভিতর কালো হয়ে যেতে পারে
- হাত-পায়ের তালু ফেটে যায় ও শক্ত গুটি ওঠে
- হাত-পা ফুলে ওঠে
- আর্সেনিকের কারণে ত্বক, ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের কর্মক্ষমতা লোপ পায়।
https://www.dw.com/bn/ত্বকের-কয়েকটি-রোগ-ও-তার-প্রতিকার/a-17740911
https://my.clevelandclinic.org/health/diseases/6866-psoriasis
